বগুড়ায় ইয়াকুবিয়া উচ্চ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা অধ্যক্ষকে উদ্ধার করেন।
রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা তাদের এই কর্মসূচি চালায়।
এসময় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি গ্রুপ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরে এবং অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে খবর পেয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আরাফাত হোসেন,সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা অবরুদ্ধ অধ্যক্ষ শাহাদত হোসেনকে উদ্ধার করে।
জানা যায়, ইয়াকুবিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সেশন ফি বাড়ানো, বেতন বাড়ানো সহ নানা অভিযোগ তুলে বিদ্যালয়ের একাংশের শিক্ষার্থীরা প্রথমে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যায়, এরপর বেলা ১২টা থেকে দিনব্যাপী বিদ্যালয়ের সামনে সড়ক অবরোধ করে। বিকালে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে একজন প্রতিনিধি বিষয়টি নিয়ে সমাধানে এগিয়ে আসলেও তিনি পরে ফিরে যান। এদিকে বিকাল থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত অধ্যক্ষ শাহাদত হোসেন তার কক্ষে অবরুদ্ধ হয়ে থাকেন। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
এদিকে, শিক্ষার্থীদের একটি গ্রুপ অধ্যক্ষের পক্ষে অবস্থান নিলে দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে পুলিশ ও অভিভাবকরা মিলিত হয়ে পরিস্থিতি নিওয়ন্ত্রণে আনে।
অধ্যক্ষ মো. শাহাদত হোসেন জানান, যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সত্য নয়। বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সমন্বয়ে বিষয়টি সমাধান করা হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আরাফাত হোসেন বলেন, ‘বিধি মোতাবেক বেতন ও সেশন ফি কমানো হবে। আর অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, তা তদন্ত কমিটি গঠন করে রিপোর্ট পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত অধ্যক্ষ প্রতিষ্ঠানে যাবেন না।’